কালোজিরার বিভিন্ন উপকারিতা

আজকে আমরা কালোজিরা নিয়ে বিস্তারিত জানব।কালোজিরার ঔষধি গুন এবং এর ব্যবহার এবং উপকারীতা সম্পর্কে। কালোজিরা বিভিন্ন রোগ এ ব্যবহৃত হয়।এর পাশাপাশি এটি মসলা হিসাবেও ব্যবহৃত হয়।কালোজিরার ফুল এর রং সাধারণত নীলচে সাদা হয় এবং পাচঁ পাপড়ি বিশিষ্ট। কিনারায় বাড়তি অংশ থাকে এবং তিনি কোনো আকৃতির কালো রঙের বীজ হয়। গোলাকার ফল হয় এবং প্রতিটি ফলে ১৫-২০ টি বীজ হয়ে থাকে। আয়ুর্বেদীয়,ইউনানী,কবিরাজি এবং লোকজ চিকিৎসায় এটি ব্যাবহৃত হয়। মসলা হিসেবে এর ব্যাপক ব্যবহার হয়ে থাকে,এটি পাঁচ ফোড়নের একটি উপাদান। বীজ থেকে পাওয়া যায় তেল।

কালোজিরা নানা রকম রোগ নিরাময়ে সক্ষম। কারন এতে উপস্থিত রয়েছে প্রায় শতাধিক পুষ্টিগুন ।কালোজিরা থেকে যে তেল বের হয় তা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। বর্তমান সময়ে কালোজিরার তৈরি ক্যাপসুল ও বাজারে বিক্রি হয়। কালোজিরার মধ্যে 21শতাংশ আমিষ, ৩৮শতাংশ শর্করা, 35 শতাংশ স্নেহ বা চর্বি উপস্থিত রয়েছে। এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ উপস্থিত রয়েছে। প্রতি গ্রাম কালোজিরাতে প্রোটিন উপস্থিত রয়েছে ২০৮ মাইক্রোগ্রাম, ক্যালশিয়াম ১. ৮৫ মাইক্রোগ্রাম, আয়রন ১০৫ মাইক্রোগ্রাম, ফসফরাস ৫.২৬ মিলি গ্রাম, কপার১৮ মাইক্রোগ্রাম, জিংক৬০ মাইক্রোগ্রাম, নিয়াসিন৫৭ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি১ ১৫ মাইক্রোগ্রাম, এবং ফোলাসিন ৬১০ আইউ।কালোজিরার তেলে রয়েছে (ভিটামিন এ, বই, বি২, সি), ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ফসফেট, নিয়াসিন, ম্যাগনেশিয়াম, সেলেনিয়াম, আয়রন, জিংক, লৌহ, কার্বোহাইট্রেড, অলিক অ্যাসিড, লিলোনিক অ্যাসিড এছাড়াও জীবানুনাশক একাধিক উপাদান যা আমাদের দেহের জন্য খুবই উপকারী। কালোজিরা থেকে যে তেল বের হয় তা বিভিন্ন ঔষধালয়ে ব্যবহার করা হয়। আমাদের এই মানব জীবনের জন্যে এটি খুবই উপকারী। প্রায় শতাধিক পুষ্টিগুন রয়েছে তার মধ্যে ।কালোজিরা আয়ুর্বেধিক, কবিরাজী এবং ইউনানী চিকিৎসার ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহার করা হয়। কালোজিরার মধ্যে রয়েছে ক্যারোটিন যা মানব দেহের ক্যান্সারের মতো মরন ব্যাধির হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম ।

কালোজিরাকে সকল রোগের মহৌষধ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এতে রয়েছে জাদুকরী নিরাময় ক্ষমতা। কালোজিরায় রয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ফ্রি রেডিক্যালের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে।কালোজিরাতে যেসব অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায় এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ট্যানেথল,কারভাকক্রল,থাইমোকুইন,ফোর-টারপিনিয়ন।এ সকল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।এটি রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং ওজন কমাতে সহায়ক। কালোজিরা সর্দি, কাশি, জ্বর, হাঁপানি এবং শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম। স্তন্যদানকারী নারীদের জন্য এটি উত্তম বন্ধু যা বুকের দুধ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

কালোজিরা রক্তে শর্করা পরিমান নিয়ন্ত্রনে রাখে যা ডায়বেটিকস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। কালোজিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ করে। হজম প্রক্রিয়া উন্নতি করে এবং পেটের গ্যাস ওঅ্যাসিডিটির সমস্যা দূর করে। এটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং সৃত্মিশক্তির উন্নত করে ।এটি চুল পড়া বন্ধ করে এবং চুলের গোড়া শক্ত করে ।

কালোজিরা ত্বকের সৌন্দর্য বৃষ্টি করে, ব্রনের সমস্যা দূর করে এবং ত্বকের মায়েশ্চারাইজ ধরে রাখতে কার্যকারি ।এটি শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা রোগীদের জন্য খুবই উপকারী যা শ্বাসনালীকে শান্ত রাখে। কালোজিরার তেল নিয়মিত ব্যবহার করলে মাথা ব্যাথা এবং মাইগ্রেন এর সমস্যা দূর করে।

কালোজিরা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা এবং শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। তাছাড়া বিশেষ করে কালোজিরা সকালে খালি পেটে চিবিয়ে খেলে এটি হজম প্রক্রিয়া কে উন্নত করতে পারে এবং শরীরের পুষ্টি উপাদান গুলোকে শোষনে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে। কালোজিরার কিছু ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। যেমন -বেশি পরিমাণে কালোজিরা সেবনে ত্বকে এলার্জির সমস্যা, চর্মরোগের সমস্যা , শরীরের রক্ত জমাটে বাঁধা, পাকস্থলীর সংকোচন বমি বমি ভাব,বুক জ্বালাপোড়া করা, অকালে গর্ভপাত এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যেতে পারে।এর ফলে কোথাও কেটে গেলে রক্তপাত বেশি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।কারো ডায়বেটিস রোগ থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে পরিমাণ মতো কালোজিরা খেতে হবে। আমাদেরকে অবশ্যই নিয়ম করে খেতে হবে কালোজিরা যতই ভালো হোক না কেন অবশ্যই পরিমাণ মতো খেতে হবে। এগুলো যেমন আমাদের শরীরকে রক্ষা করে , তেমনি মনকে সতেজ ও সজীব করে।

প্রতিদিন ১/২চা চামচ কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে। কালোজিরার তেল গরম পানির সাথে মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। এটি চূর্ণ মধুর সাথে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। রান্নার কাজে ও খাবারে কালোজিরা ব্যবহার করা যাবে।

কালোজিরা একটা প্রাকৃতিক উপাদান যা দেহের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে। তবে গুরুত্বর স্বাস্হ্য সমস্যার ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত

Leave a Comment