বিটরুট এর অসাধারণ উপকারিতা

আমাদের কর্মক্ষমতা, শক্তি ও সুস্থ থাকার জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে থাকি।আজকে এমন একটি খাবারের কথা বলব,যা সকল ধরনের পুষ্টিগুনে ভরপুর রয়েছে, সেটি হচ্ছে বিটরুট।এটি একটি শীতকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত পেলেও বর্তমান সময়ে সারাবছরই পাওয়া যায়।এর উপকারীতা ও পুষ্টি উপাদান থাকায় একে সুপার ফুড ও বলা হয়ে থাকে। বিটরুটে রয়েছে আয়রন,ম্যাগনেসিয়াম,ফিলেট, নাইট্রেট এবং অ্যান্টিআক্সিডেন্ট উপাদান।বিটরুট কাচাঁ খেতে পারলে পুষ্টি বেশি পাওয়া যায়। তাছাড়া ও এটি রান্না করে খাওয়া যায়।এটি পানির সাথে মিশিয়ে জুস বানিয়ে খাওয়া ও ভালো উপকার পাবেন।

বিটরুট সালাত হিসেবে কাঁচা খাওয়া যায়। এটি সিদ্ধ বা বেক করে এবং স্টু বা স্টার ফ্রাইয়ে ব্যবহার করে খাওয়া যায়। বিটের পাতার শাকের মতো রান্না করে খাওয়া যায়। বিটের পাতায় রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন ওখনিজ উপাদান যা আমাদেরকে সুস্বাস্থের অধিকারী করে তোলে। বিটরুট শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের প্রদাহ কমায় এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ত্বকের তরুণ্য ধরে রাখতে বিটরুট অতুলনীয় ভূমিকা পালন করে। ত্বকের বলি রেখা,ব্রণ,বিভিন্ন দাগ দূর করতে ও এটি কাজ করে। বিটের রস চুলে ব্যবহার করলে চুলের ঘনত্ব বাড়ায় এবং চুল পড়া রোধ করে। চুলের সব
ধরনের পুষ্টি পেতে হলে এটি ব্যবহার করা প্রয়োজন। ওজন কমাতে এবং হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বিটরুট খুবই উপকারী। চোখের স্বাস্হ্য ভালো রাখতে

,রাতকাণা রোগ দূর করতে বিটরুট কার্যকারী। এছাড়াও এর অনেক গুণাবলী রয়েছে। প্রত্যেক খাবারের যেমন ভালো দিক রয়েছে তেমনি কিছু খারাপ দিক ও রয়েছে। বিটরুট রক্তচাপ কমিয়ে দেয়, তাই যাদের নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা আছে তাদের জন্য বিটরুট খাওয়া উপযোগী নয়। বিটরুট বেশি খেলে প্রসাবের রং লাল বা হলুদ হতে পারে তাই পরিমাণ মতো খাওয়া উচিৎ। বিট বেশি খেলে কিডনিস্টোন হতে পারে। ডায়বেটিস রোগীদের জন্য ও বিটরুট খাওয়া যাবে না।বিটে এলার্জি থাকে তাই যাদের এ সমস্যা আছে তারা এটি খেতে পারবেন না। যাদের কিডনিতে পাথরের সমস্যা আছে তারাও বিটরুট খাওয়া থেকে দূরে থাকবেন।

বিটরুট সবজি বাড়ি চারপাশে বা ছাদে টপের মধ্যে চাষ করা যায়। জমিতে ও এটি চাষ করা হয়ে থাকে। বিটরুট চাষের সবচেয়ে উপযোগী সময় হচ্ছে শীতকাল। এ সময়ে এর ফলনও বেশি হয়।

বাংলাদেশে ও বিটরুট চাষ করা হয়। যেমন ব্রাক্ষণবাড়িয়া,গাইবান্ধা, চুয়াডাঙ্গা ও নীলফামারিতে এটির চাষ অনেক বেশি করা হয়। এটি দেখতে গাড় লাল রঙের ও রসালো হয়ে থাকে।একেকটা বিটের পরিমাণ ২০০-২৫০ গ্রাম মাঝে মাঝে এমনকি ৫০০ গ্রামও হয়ে থেকে। বর্তমান সময়ে বিট চাষ করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে হাজারো মানুষের জীবিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে।তাছাড়াও এতে কাজ করে হাজারো বেকার মানুষ কর্মের সন্ধান খুঁজে পেয়েছে, এর ফলে দেশে বেকারত্ব হ্রাস পেয়েছে। আমরা সবসময় চেষ্টা করব বিটরুট খাওয়ার জন্য ওচাষ করার জন্য। এটি নিয়মিত খেলে আমাদেরকে সুস্থ এবং সবল দেহের উপযোগী করে তোলতে সক্ষম। “কথায় আছে, (Health is wealth)স্বাস্থ্যই সম্পদ,(স্বাস্থ্য ভালো যার, সব ভালো তার)।”

Leave a Comment