ব্রেইনের জন্য মানুষের মস্তিস্কের বিকাশের জন্য প্রয়োজন শর্করা এবং গ্লুকোজ জাতীয় খাবার। আজকে আমরা এমন কয়েকটি ব্রেইন ফুড সম্পর্কে আলোচনা করব, যেগুলো ব্রেইন পাওয়ার বাড়াতে সক্ষম। যেমন- রসুন, কুমড়ার বীজ,সামুদ্রিক মাছ,বাদাম, ব্রকলি,ডিম, মিষ্টি আলু,বিটরুট এবং ডার্ক চকলেট।
(১)রসুন : রসুন মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী। এটি মস্তিষ্কের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এটি স্মৃতি শক্তি বাড়বে এর পাশাপাশি ব্রেইনের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করবে। তাছাড়া রসুন হৃদরোগ ও প্রতিরোধ করে।
(২)কুমড়ার বীজ:কুমড়ার বীজে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম,সালফার, জিংক,ভিটামিন- এ,বি ও কে এবং ওমেগা ৩ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। তাছাড়া অনেক রকমের পুষ্টি উপাদান,যা ব্রেইন পাওয়ার বৃদ্ধি করতে খুবই উপকারী। এটি ব্রেইনকে ক্যান্সার থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।এটি ব্রেইন ছাড়াও হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং ঘুমের মান উন্নত করে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীরের রক্তশূন্যতা দূর করতে উপকারী। এটি কিডনি, লিভার ও বাতের ব্যথায় কার্যকারী। হাড়ের রোগ দূর করে এবং চুল ঘনওউজ্জ্বল করে তোলে।নিয়মিত কুমড়ার বীজ খেলে দ্রুত ওজন কমে।কুমড়োর বীজে থাকা সেরাটোনিন স্নায়ুতন্ত্রের চাপ কমিয়ে ঘুমের সমস্যা দূর করে।তাছাড়া ও এটি শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে এবং শরীরের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে।

(৩)সামুদ্রিক মাছ: সামুদ্রিক মাছে ২ ধরনের ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে যা আামাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। ভিটামিন এওডি,ও প্রচুর পরিমানে মিনারেল পাওয়া যায় যা ব্রেইনের জন্য খুবই উপকারী। এটি খুবই কম ক্যালরি যুক্ত খাবার। ১০০ গ্রাম সামুদ্রিক মাছ থেকে প্রায় ৪২ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। এতে আয়োডিন ,জিংক, সালফার, পটাশিয়াম সহ অনেক পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় যা আামাদের শরীরের ও ব্রেইনের জন্য খুবই উপকারী।এটি ব্রেইনকে শক্তিশালী করে দেয় এবং বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে সক্ষম। এসকল মাছে থাকা ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা ব্রেইনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। এছাড়াও এটি শরীরের জন্য পুষ্টি তৈরি করে এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কার্যকারী উপাদান রয়েছে। তাই আমাদেরকে সুস্থ থাকতে হলে সামুদ্রিক মাছ খাওয়া অত্যাবশক।
(৪)বাদাম : বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট,যা ব্রেইন পাওয়ার বাড়িয়ে দেয়।এছাড়া ও বাদাম উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যা খিদে কমায় ও ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। গর্ভাঅবস্হায় বাদাম খাওয়া খুবই উপকারী। এটি হাড় শক্ত করে এবং স্তনক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। রক্তে শর্করার মাএা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়ক। এটি মস্তিষ্ক ও হার্ট ভালো রাখতে খুবই কার্যকারী।বাদাম ওজন কমাতে ও সাহায্য করে। এটি স্মৃতি শক্তি বাড়াতে সক্ষম এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম। বাদাম নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে এবং মাথার খুশকি দূর করে।

(৫)ব্রকলি:ব্রকলি একটি সবজি হিসেবে পরিচিত। এতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ‘এ’ থাকায় এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ব্রকলির মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধী ন্যাচারাল অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। এটিতে প্রচুর পরিমানে ফাইবার রয়েছে যা অন্র পরিষ্কার করতে সাহায়তা করে। এতে সালফোরাফেন নামক উপাদান যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এতে ভিটামিন ‘এ’ এবং লুটেইন চোখের জন্য খুবই উপকারী। ব্রকলিতে রয়েছে ভিটামিন কে এবং ক্যালসিয়াম যা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এটির মধ্যে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। লিভারের সমস্যা দূর করে ও তরুন্য ধরে রাখতে খুবই উপকারী। ব্রকলি ব্রেইনের জন্য খুবই উপকারী। ব্রেইন পাওয়ার বাড়িয়ে দেয় এবং স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করে।

(৬) ডিম: ব্রেইন ভালো রাখতে এবং ব্রেইন পাওয়ার বৃদ্ধি করতে ডিম খাওয়া অপরিহার্য। প্রতিদিন একটি সিদ্ধ ডিম খেলে ওজন ঠিক থাকবে। সিদ্ধ ডিমে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন যা চুল এবং ত্বককে ভালো রাখে।ডিমের মধ্যে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও প্রোটিন থাকায় এটি মাংশপেশি গঠন,হাড়শক্ত ও মজবুত করে তোলে।শরীরের শক্তি ও হজম ক্ষমতা বাড়াতে চাইলে আাপনার খাদ্য তালিকায় অবশ্যই ডিম থাকতে হবে। ডিম খারাপ কোলেস্টেরল এর মাএা কমায় এবং স্ট্রেসের প্রকোপ কমায়।এটি দৃষ্টি শক্তির উন্নতি ঘটায়। নিয়মিত ডিম খেলে শরীরে অ্যামাইনো অ্যাসিডের ঘাটতি দূর হয়। সকালে সিদ্ধ ডিম খেলে হার্টের কার্যক্ষমতা বাড়ে।তাছাড়া ও রোগ প্রতি রোধ ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম এবং শরীরের বিভিন্ন রোগ উপশম করে।

(৭) মিষ্টি আলু:মিষ্টি আলু ব্রেইনের জন্য খুবই উপকারী, কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট,যা ব্রেইনের সচলতা এবং কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় অন্ত্রের
ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়ায় যার ফলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এতে ভিটামিন এ থাকার কারণে চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকারী। মিষ্টি আলুতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি,বি৩,বি৫ ও বি৬ যা শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কোলেস্টেরল কমায় এবং ব্লাড সুগারের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এতে থাকা ফাইবার। হৃদযন্ত্র ও স্নায়ুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে মিষ্টি আলু খাওয়া উচিৎ। গর্ভবতী নারীর জন্য মিষ্টি আলু খাওয়া জরুরি, এটি গর্ভের সন্তান বৃদ্ধির জন্য সহায়তা করে। এতে কলার থেকে ও অনেক বেশি পটাশিয়াম পাওয়া যায়। মিষ্টি আলু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়াও বিভিন্ন রোগ প্রতি রোধ করে দেহকে সুস্থ রাখে। ব্রেইনকে সুস্থ রাখতে চাইলে মিষ্টি আলু খাওয়া উচিৎ।
৮) বিটরুট : বিটরুট আমাদের মস্তিষ্কের কার্য ক্ষমতা বাড়ায়। বিটে বিদ্যমান নাইট্রেট উপাদান বিভিন্ন মানসিক সমস্যা, (যেমন- ডিমেনশিয়া এবং স্মৃতিভ্রংশ) ইত্যাদি রোগ দূর করতে উপকারী। এতে প্রচুর পরিমানে আয়রন থাকায় রক্তস্বল্পতা ও অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করে। বিটে রয়েছে বিটালাইন নামক ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত বিটরুট খেলে স্ট্রোকের আশঙ্কা থাকে না। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম,কলেরা এবং ডায়রিয়া নিরাময় করে। তাছাড়া ও বিটের অনেক উপকারিতা রয়েছে।

(৯) ডার্ক চকলেট :শিশুদের মস্তিষ্ক বিকাশে ডার্ক চকলেট খুবই কার্যকারী। এতে থাকা ট্রিপটোফেন বিষন্নতা রোধ করে। এটি মস্তিষ্কে ডোপামিন ক্ষরণ বাড়িয়ে শরীরে আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে। এটি শরীরের ক্যান্সার কোষ গুলোকে ধ্বংস করে দেয়। এছাড়াও এর অনেক গুণাবলী রয়েছে।
নিয়মিত এইসকল খাবার খেলে আমাদের ব্রেইন শক্তিশালী হবে, ব্রেইনের কার্য ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ব্রেইন সচল থাকবে।