রসুন এর চমৎকার ঔষধি গুন

আমাদের দৈন্দিন জীবনে ব্যবহৃত একটি মসলা হচ্ছে রসুন। এই রসুন এর রয়েছে হাজার ও ঔষধি গুন।আজকে আমরা রসুন নিয়ে বিস্তারিত জানব।সব ধরনের তরকারিতে স্বাদ বাড়াতে রসুন দেওয়া হয়।আবার কেউ কেউ রসুনের আচার খেতে পছন্দ করেন। এই রসুনে অনেক পুষ্টি গুণ থাকায় একে সুপার ফুড বলা হয়ে থাকে। ঔষধিগুনে সমৃদ্ধ এই রসুন প্রাচীনকালে ঔষধ হিসেবে পরিচিত লাভ করে।

এতে রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী এবং এগুলো উপাদান দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম। উপাদান গুলো হলো:অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট,অ্যাসিলিন, ভিটামিন ওখনিজ উপাদান। রসুনের মধ্যে শরীরের জন্য খুবই উপকারী থায়ামিন (ভিটামিন বি১),নায়াসিন(ভিটামিন বি৩),রিবোফ্লাভিন (ভিটামিন বি২),প্যান্টোথ্যানিক অ্যাসিড(ভিটামিন বি৫),ভিটামিন বি৬,ফোলেট(ভিটামিন বি৯),সালফার কম্পাউন্ড এবং সেলেনিয়াম ইত্যাদি উপাদান রয়েছে।

রক্তে টক্সিনের পরিমাণ কমিয়ে দেহকে সুস্থ রাখতে রসুন অপরিহার্য। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে রসুন এক অনন্য ঔষধ। লিভার ও মূএাশয়ের কার্য ক্ষমতা বাড়াতে রসুন খুব উপকারী। ডায়েরিয়া,ব্রংকাইটিস,নিউমোনিয়া, হাঁপানির মতো সমস্যা রোধ করতে রসুন বেশ উপকারী। রসুনে অ্যাসিলিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়, যা চুল পড়া রোধ করতে ভীষণ উপকার করে।রসুনে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে মানসিক চাপ কমিয়ে দেয়। রসুন কোষের দ্রুত ক্ষয় রোধ করে এবং মস্তিষ্কে রক্তের প্রবাহ বাড়ায়।বাতের ব্যাথা রোগের ভালো ঔষধ হচ্ছে রসুন।
অ্যান্টিব্যাকটেরিয়ালও অন্টিফাঙ্গাল গুনের কারনে মাড়ি সারাতে বেশ উপকারী। রসুন স্মৃতি শক্তি বাড়িয়ে তোলে এবং শরীরের ওজন দ্রুত কমে। দাত ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায় এবং মাড়ি ভালো থাকে।রক্তে কোলেস্টেরলের মাএা কমে এবং ত্বকে বার্ধ্যকের ছাপ পড়ে না,কোনো দাগ থাকলে দূর হয়ে যায়।ব্রণ দ্রুত শুকিয়ে যায়।হাড়া শক্ত ও মজবুত হয়।বমি, বদহজম,অম্লযুক্ত মল ও কৃমি রোগ সারিয়ে তুলতে পারে। ঠান্ডা, কাশিঁ, জ্বর, সর্দি ইত্যাদির হাত থেকে রক্ষা করে।

তাছাড়াও রসুন শ্বাসকষ্ট কমায় এবং ক্যান্সার দূর করে। রক্তকে পরিশুদ্ধ করে। ভাজা রসুন খেলে মেদ ও ভুড়ি কমে।হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং যৌনশক্তি বাড়ে।রসুন হাইপ্রেসার কমায়। এটি এলার্জি প্রতিরোধ করে।

অতিরিক্ত রসুন খাওয়ার কিছু পাশ্বর্পতিক্রিয়া রয়েছে। যেমন-অতিরিক্ত রসুন খেলে কিন্তু মানুষের ক্ষেএে পেটে গ্যাস,ডায়রিয়া এবং অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে। যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে তাদের রসুন খেলে বুক জ্বালাপোড়া হতে পারে। অতিরিক্ত রসুন খেলে রক্ত পাতলা হয়ে যায়। তাই যাদের রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা আছে তারা রসুন কম পরিমাণে খাবেন। আবার কারো কারো এলার্জি হতে পারে তারা এটি খেতে পারবেন না। রসুন বেশি খেলে নিঃশ্বাসের সময় দুর্গন্ধ হতে পারে। অতিরিক্ত রসুন বমি বমি ভাব এবং শরীরে দুর্গন্ধ হতে পারে।

মাএারিক্ত রসুন খাওয়ার ফলে রসুনে থাকা রাসায়নিক উপাদান অ্যাসিলিন লিভারে বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে। রসুনে রয়েছে সালফার যা গ্যাস তৈরি করে তাই খালি পেটে অতিরিক্ত রসুন খেলে ডায়রিয়া হতে পারে।যারা ওয়ারফারিন অ্যাসপিরিন ঔষধ সেবন করেন তারা রসুন খাবেন না। দীর্ঘ দিন রসুন খেলে ঘাম বেশি হতে পারে এবং রক্তচাপ কমে যেতে পারে। গর্ভবতী মহিলারা রসুন খেলে প্রসব বেদনা বেড়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে। বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েরা রসুন খেলে দুধের স্বাদ পাল্টে যেতে পারে।

অতিরিক্ত রসুন খাওয়ার ফলে হাইফিমা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আাইরিস ও কনির্য়ার মধ্যে রক্তক্ষরণ হতে পারে। ফলে দৃষ্টি শক্তি হারাতে পারে।

রসুন সাধারণত কাচা চিবিয়ে খাওয়াই ভালো। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১-২ কোয়া রসুন খেলে উপকার বেশি পাওয়া যায়। রসুন কাটার পর ১৫ মিনিট খোলা বাতাসে রেখে খাওয়া ভালো এবং এর অ্যাসিলিন উপাদান ভালো ভাবে হজম হয়। খালি পেটে রসুন খেলে সমস্যা হলে ভরা পেটে বা খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়া উচিৎ। মধু,দই,বা পানির সাথে মিশিয়ে ও খাওয়া যায়।

Leave a Comment