সেরা ১০ টি সুপার ফুড

আজকে আমরা আলোচনা করব ১০টি সুপার ফুডের উপকারিতা সম্পর্কে।

যে সকল খাবারে ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘনত্ব এবং পুষ্টিগুণ অন্য খাবারের তুলনায় অনেক বেশি থাকেসে সকল খাবারকে সুপার ফুড বলে। সুস্থ থাকতে শারীরিক দূর্বলতা কাটিয়ে শরীরের শক্তি বাড়াতে এইসব খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সুপার ফুডের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে সজিনা।

1- সজিনা :- এটি আমাদের দেশে খুবই পরিচিত একটি সবজি। সজিনার ইংরেজি নাম Drumstick এবং বৈজ্ঞানিক নাম Moringa।শীতকাল ছাড়া সব দেশেই সজিনা পাওয়া যায়।আমাদের দেশে সজিনা পাতার গুরা খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সজিনা সবজির চেয়ে এর পাতার উপকারিতা অনেক বেশি। এটি এর অত্যন্ত পুষ্টিকর পাতার জন্য পরিচিত যা ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এতে ভিটামিন সি ক্যালসিয়াম,পটাসিয়াম ও আায়রনে ভরপুর। শরীরের এলার্জি দূর করতে এর পাতা কাজ করে।

দৃতীয়ত হচ্ছে কালোজিরা।

2- কালোজিরা:- কালোজিরাকে সকল রোগের মহা ঔষধ বলা হয়। এটি শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি সুপার ফড।যার হাঁপানি বা শ্বাস -কষ্ট রোগে আক্রান্ত তারা কালোজিরা খেতে পারেন। কালোজিরা ডায়বেটিক নিয়ন্ত্রণ করে এবং মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধির মাঝে স্মৃতি শক্তি বাড়ায়।গ্যাসের সমস্যা দূর করতে ও এটি কাজ করে। সর্দি, কাশিঁ, মাথাব্যথা, চর্মরোগ, জন্ডিস ইত্যাদি সারতে খুবই উপকারী। আপনার যদি হার্টের সমস্যা থাকে তবে কালোজিরা খেলে ভালো উপকার পাবেন। অকালে চুল পড়া থেকে মুক্তি পেতে এবং চুলের পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টির জন্য কালোজিরা তেলে মিশিয়ে ব্যাবহার করতে পারবেন। মায়েদের জন্য এটি একটি সহজলভ্য উপাদান এবং উত্তম বন্ধু যা বুকের দুধ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের বড় বড় রোগ থেকে মুক্তি পেতে এটি খুবই কার্যকারি।

তৃতীয়ত হলো রসুন এটি এমন ।

3-রসুন:- একটি সুপার ফুড যা সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে রসুন এক অনন্য ঘরোয়া ঔষধ।প্রতিদিন সকালে রসুন খেলে রক্ত সঞ্চালন ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। রক্তে টক্সিনের পরিমাণ কমিয়ে দেহকে সুস্থ রাখতে রসুন অপরিহার্য।রসুন প্রাকিতিক অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে এবং কোলেস্টেরল কমিয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আমাদের ত্বককে মসৃণ ও ব্রন থেকে মুক্তি এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে রসুনের জুড়ি মেলা ভার।

চতুর্থতম সুপার ফুড হলো বাদাম।

4-বাদাম:- আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের বাদাম রয়েছে। যেমন – চিনাবাদাম,কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, এবং পাস্তা বাদাম। বাদামে রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টির উপাদান, যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। গবেষকরা বলছেন সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য বাদাম খাওয়া খুবই উপকারী। যৌন সমস্যা দূর করতে বাদামের ভূমিকা অপরিসীম। নিয়মিত বাদাম খেলে ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায় এবং পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়।বাদাম হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। খারাপ কোলেস্টেরলের মাএা কমায় এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।হাড়ের ক্ষয় রোধে বাদাম খাওয়া খুবই উপকারী। ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে বাদামের উপকার পাবেন। এছাড়াও শরীরের অনেক শক্তি বিভিন্ন রোগ রোধে বাদাম খাওয়া অপরিহার্য।

মধু হচ্ছে পঞ্চমত একটি সুপার খাবার।

5- মধু:- বহুবছর ধরে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে মধু।মধু খেলে দেহের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।মধুর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কারণে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।আমাদের বিশ্বনবী বলেছেন মধু দেহকে সুস্থ এবং সবল রাখতে সাহায্য করে।মধু রক্ত ও রক্তনালী পরিষ্কার করে, রক্ত উৎপাদনে সহায়তা করে।মধু কালোজিরার সাথে মিশিয়ে খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্বিগুন বাড়িয়ে দেয়। মধু শরীরের দূর্বলতা কাটিয়ে শক্তি বাড়াতে উপকারী। কাশিঁ কমানোর জন্য মধু খেতে পারেন। মধু ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং মেধা ভালো রাখে।
তাছাড়া আরও অনেক রোগের জন্য মধু ব্যাবহৃত হয়ে থাকে।

ষষ্ঠতম সুপার ফুড হলো হলুদ।

6- হলুদ :- হলুদে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ অনেক বেশি থাকায় অ্যালজ্যাইমার,ডায়াবেটিক,অ্যাজমা,ক্যান্সার,হার্ট, কোলেস্টেরল এবং মস্তিষ্ক ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ করতে সহায়ক।এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।খালি পেটে কাঁচা হলুদ খেলে রক্ত পরিষ্কার হয় ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।ঘুমানোর আগে দুধের সাথে হলুদ খেলে ঘুম ভালো হয়। সর্দি- কাশিঁ কমায়,প্রজনন স্বাস্থ্য উন্নত করে। মেয়েদের মাসিকের সময় পেট ব্যথা,হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, সাদাস্রাব এবং ফাইরয়েডের সমস্যা দূর করে।এছাড়াও হলুদ শরীরের বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করে ও সুস্থ রাখে।

সপ্তমতম সুপার ফুড হচ্ছ বিটরুট।

7-বিটরুট:- এটি শীতকালীন একটি সবজি হিসেবে পরিচিত পেলেও বর্তমান সময়ে সারাবছরই পাওয়া যায়। তাছাড়াও এটি ঔষধ হিসেবে খাওয়া হয়ে থাকে।এতে রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান, যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।বিটরুটে রয়েছে অনেক বেশি আয়রন, যার ফলে অ্যানিমিয়া এবং রক্তস্বল্পতায় এটি খুবই উপকারী। ওজন নিয়ন্ত্রণে ও হজমে বিটরুট কার্যকারী। এতে বিটালাইন নামক ফাইটোনিউট্রয়েন্ট থাকায় বিভিন্ন অঙ্গ -প্রতঙ্গের প্রদাহ কমায়।এটি শর্করার মাএা নিয়ন্ত্রণ করে। পাচনশক্তিবাড়ায় এবং শারিরীক শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে, বলিরেখা কমাতে, ব্রন দূর করতে ও সাহায্য করে বিটরুটের রস। বিটরুট ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় এবং লিভারের সমস্যা দূর করতে উপকারী।এছাড়াও দেহকে সুস্থ এবং সবল রাখতে, রোগ মুক্ত রাখতে বিটরুটের ভূমিকা অপরিসীম।


অষ্টমত সুপারফুড হলো চিয়াসিড।

8-চিয়াসিড:- এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধেও শক্তি বাড়াতে সক্ষম।বিভিন্ন ফলের রসের সাথে মিশিয়ে খেলে ভালো উপকার পাবেন। চিয়াবীজ হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে উপকারী। চিয়াসিড শরীর থেকে টক্সিন নামক বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। এটি প্রদাহ জনিত সমস্যা দূর করে ও ব্লাড সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক। এটি শরীরের শক্তি বৃদ্ধির সাথে সাথে শরীরের কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তাছাড়া আরও অনেক উপকার রয়েছে।

নবমতম সুপার ফুড হলো মিষ্টি কুমড়ার বীজ।

9-মিষ্টি কুমড়ার বীজ:- এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিঙ্ক, যা অস্টিওপোরেসিস সহ হাড়ের যাবতীয় সমস্যা দূর করতে উপকারী। মিষ্টি কুমড়ার বীজে থাকা সেরাটোনিন স্নায়ুতন্ত্রের চাপ কমিয়ে অনিদ্রা দূর করতে সহায়তা করে। এর বীজে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড,সালফার, জিঙ্ক,ভিটামিন-এ, বি ও কে যা ত্বক এবং চুলের জন্য
খুবই উপকারী। এসব উপাদান চুলের উজ্জ্বলতা ও চুলকে ঘন করতে সাহায্য করে। পুরুষের প্রোস্টেটের সমস্যা দূর করেও ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে উপকার করে। এছাড়াও বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এর ভূমিকা অপরিসীম।

দশমতম সুপার ফুড হচ্ছে বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ

10- সামুদ্রিক মাছ:- যেমন-অক্টোপাস,হাঙ্গর মাছ, হাতুড়ি মাছ, তারা মাছ ও করাত মাছ ইত্যাদি। এসব মাছে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা হার্টের জন্য ভালো উপকার করে। সামুদ্রিক মাছে থাকা ভিটামিন -এ ও ডি কোলেস্টেরলের মাএা স্বাভাবিক রাখে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া ও শরীরের রোগ প্রতি রোধে দেহকে সুস্থ রাখতে সামুদ্রিক মাছ খাওয়া প্রয়োজন।

সর্বশেষে বলা যায় যে, আামাদের সুস্হ থাকতে হলে এ সকল সুপার ফুড খাওয়া জরুরি।

Leave a Comment