জেনে নিন ড্রাগন ফলের উপকারীতা এবং অপকারীতা

বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের জনপ্রিয় একটি ফল হচ্ছে ড্রাগন ফল।এটির রং বাইরের অংশ লাল,হলুদ ও সাদা হয়ে থাকে, তবে লাল রঙের ড্রাগনই বেশি পাওয়া যায়।এর ভিতরের অংশ লাল-সাদা রঙ্গের এবং আঁশ যুক্ত হয়ে থাকে। এটি পিটিয়া নামে ও পরিচিত, একটি পুষ্টিকর ফল যা দেখতে আকর্ষণীয় এবং খেতে ও বেশ স্বাদযুক্ত এবং মিষ্টি।এটি Cactaceae পরিবারের সেলেনিসেরিয়াস (পূর্বে Hylocereus)গণের একটি ফল,তাই এর নামকরণ করা হয়েছে ইউকিপিডিয়া।

গন চীনের লোকেরা এটিকে আগুনে ড্রাগন বা মুক্তার ড্রাগন ফল বলে অভিহিত করেন।ভিয়েতনামে মিষ্টি ড্রাগন,ইন্দোনেশিয়াওমালোশিয়াতে ড্রাগন ফল এবং থাইল্যান্ডে ড্রাগন স্ফটিক নামে পরিচিত।এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া,মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র,ক্যারিবিয়ান,অস্ট্রেলিয়া,মেসোআমেরিকা এবং বিশ্বের গ্রীষ্মমন্ডলীয়ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে চাষ করা হয়।এই বিদেশি ফল এখন বাংলাদেশেও বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হচ্ছে। এটি ভিটামিন সি, ফাইবার, ম্যাগনেশিয়াম,আয়রন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম। এতে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকায় ওজন কমাতে সাহায্য করে।

রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ রাখে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই ফল হজমে ও কার্যকারি।

প্রতি ১০০ গ্রাম ড্রাগন ফলে রয়েছে (কার্বোহাইড্রেট-১১গ্রাম,প্রোটিন-১গ্রাম,ফ্যাট-০.১গ্রাম,ফাইবার -৩গ্রাম,ভিটামিন সি-৩গ্রাম,ক্যালসিয়াম-৬মিগ্রাম,আয়রন-১.৯গ্রাম এবং ম্যাগনেশিয়াম-১৮.৯মিগ্রাম) শক্তি প্রায় ৪০ ক্যালোরি।

এই ফল ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং চুল পড়া রোধ করতে বেশ উপকারী। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি হার্ট কে সুস্থ রাখে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। কিডনি সমস্যা দূর করে,রক্তে গ্লুকোজের মাএা নিয়ন্ত্রণ করে এবং চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে।

প্রত্যেক খাবারের যেমন ভালো দিক রয়েছে তেমনি কিছু খারাপ দিক রয়েছে। ড্রাগন ফলের কিছু ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। যেমন-অতিরিক্ত ড্রাগন ফল খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে। যাদের এই ফলে এলার্জি আছে তারা এই খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো। এতে ফাইবার থাকে আর এটি অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে শরীরের প্রয়োজন মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।

এটি জুস বানিয়ে, সালাতের সাথে দিয়ে ও খাওয়া যায়। শরবত ও দুধের সাথে মিশিয়ে ও খাওয়া যায়। তাছাড়া এটি রান্না করে ও খাওয়া যায়।

ড্রাগন ফল দুইভাবে চাষ করা যায়।প্রথমত বাড়ির আশেপাশে বা ছাদে টবের মধ্যে লাগিয়ে চাষ করা যায় দ্বিতীয়ত জমিতে চাষ করা যায়। টবে চাষ করার জন্য প্রথমে আপনাকে মাটি বেছে নিতে হবে। ১০ % বেলে দোআশঁ মাটি,৪০% জৈব সার,১০%কোকো পিট এবং ১০%বালি(যেকোনো বালি) নিতে হবে। কোনো ভাবেই যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর পানি জমে থাকলে গাছটি মারা যাবে।

এবার মাটি গুলোকে ভালো ভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এবার একটি টবে মাটি গুলো দিয়ে দিতে হবে তারপর ড্রাগনের চারা রোপন করতে হবে। মাটি গুলো যদি শুকনো থাকে তাহলে চারা রোপণের পরে পানি দিতে হবে আর ভেজা থাকলে পানি দিতে হবে না। কয়েক দিন পর আস্তে আস্তে দেখা যাবে চারা গুলো বড় হতে শুরু করেছে। এক বছর পরেই ফল ধরা শুরু করবে। এবার জমিতে ড্রাগন ফল চাষ করার জন্য প্রথমে জমির মাটি বাছাই করে নিতে হবে। এর পর চারা রোপণ করতে হবে। জমিতে ও পানি জমা করা যাবে না।তা নাহলে চারাগাছ মারা যাবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রাগন ফল চাষ হয় যেমন-ঢাকা,সাভার, টাঙ্গাইল, মধুপুর,ঘাটাইল, সখিপুর, ঝিনাইদহ, কালীগঞ্জ,মহেশপুর, চুয়াডাঙ্গা, জীবননগর, দামুড়হুদা,মাদারীপুর, ময়মনসিংহ, নান্দাইল, বান্দরবান এবং নাটোর জেলায়।এই বিদেশি ফল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন এইসব জেলার লোকেরা। ফলে এর চাষের পরিমাণ দিন দিন বাড়তেই চলেছে। খুবই পুষ্টিকর এবং উপকারী একটি ফল আমাদের প্রত্যেকের দৈনন্দিন খাবার তালিকায় রাখা অবশ্যক।

Leave a Comment